শিরক ও বিদআত মুক্ত সিলসিলা

"السلام عليكم ورحمة الله وبركاته"

পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহ.)

এর সিলসিলা নতুন কোনো মত পথ নয়। বরং এটি নবী (সাঃ) আদর্শ অনুযায়ী এই সিলসিলা গঠিত হয়েছে। এই সিলসিলা শিরক ও বিদআত মুক্ত। তিনি তাঁর জীবনে সব সময় শিরক ও বিদআত এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

শিরক ও বিদআত মুক্ত সিলসিলা

পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহ.) এর জীবনী ও পরিচিতি

উনিশ শতকের শেষার্ধের দিনগুলি ছিল মুসলমানদের জন্য চরম দুর্যোগ ও দুর্ভোগের দিন। একদিকে ক্ষমতার শীর্ষে ইংরেজ, তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করেছে জাতীয় উন্নতি, অবনতি। ভাষাগত দ্বন্দ্বের সাথে সাথে স্বজাতি বিজাতীর মধ্যে ছিল ধর্মগত বিরােধ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংঘাত।

ইসলামের সঠিক ধর্মমত নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে শীয়া সুন্নি, হানাফী,মােহাম্মাদী, বেদাতী পীর-ফকির, কাদিয়ানী বিরােধের পাশাপাশি খৃষ্টান, আৰ্য্য,বাউলদের প্রচার ও প্রভাবে মুসলিম সমাজ ছিল উভ্রান্ত। তাছাড়া নানা দেশাচার কুসংস্কার ও শিরক বিদআতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ছিল সমগ্র মুসলিম সমাজ।

তখনি কলকাতা থেকে ২২ মাইল উত্তর-পশ্চিমে পশ্চিম বাংলার হুগলী জেলার ফুরফুরা শরীফে আগমন করেন বিংশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ মাওলানা শাহ সূফী আলহাজ্জ আব্দুল্লাহ আল মারুফ মুহাম্মদ আবূ বকর সিদ্দীকি আল ফুরফুরাভী র.। যিনি ছিলেন মুজাদ্দিদে জামান, কুদওয়াতুছ ছালিকীন, জুবদাতুল আরিফীন, শাইখুল মুহাক্কিকীন, আমীরুশ্ শরীয়ত, মাহিয়ে বিদ’আত, মুহইয়ে সুন্নাত, ইমামুল হুদা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুজাসসাম নমুনা। ছিলেন পথহারা মানুষের আলোর দিশারী। সমাজ থেকে সকল প্রকার পাপাচার-অনাচার দূর করে সমাজকে করেছিলেন নিষ্কলুষ। সকল প্রকার বিদ’আতি, গোমরাহী ও ভণ্ডামীর বিরুদ্ধে ছিলেন বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। আজীবন বিলিয়েছেন হিদায়াতী নূর।

ফুরফুরা শরীফের প্রতিষ্ঠা মোজাদ্দিদে জামান হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রহ.)  ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের হুগলী জেলার ঐতিহাসিক গ্রাম ফুরফুরা শরীফে জন্মগ্রহণ করেন। 

[জন্ম সন সম্বন্ধে মতভেদ আছেঃ সন ১২৫৩, বাংলা সংসদ, বাঙালী চরিতাভিধান, প্রধান সম্পাদক, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৭৬ খৃঃ, পৃঃ ৪৩; সন ১২৬৫ বাংলা, এম ওবাইদুল হক, বাংলাদেশের পীর আউলিয়াগণ ফেনী, ১৯৬৯ খৃঃ, পৃঃ ৩৫; সন ১২৬৩ হিঃ, মুহাম্মদ মুতীউর রহমান, আঈনা-ই-ওয়ায়সী, পাটনা, ১৯৭৬ খৃঃ, পৃঃ ২৪২; দেওয়ান মুহাম্মদ ইব্রাহীম তর্কবাগীশ, হাকীকতে ইনসানিয়াত, রাজশাহী, ১৩৯০, হিঃ, পৃঃ ৩

মোজাদ্দিদে জামান হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রহ.) ১৮৫০ সালের দিকেই তার বাল্য শিক্ষা নিজ ঘরেই শুরু হয়। প্রাথমিক ইসলামি জ্ঞান শেখার পরে তিনি আত্মীয়স্বজনদের পরামর্শে স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হন এবং ইংরেজিসহ ইসলাম বিবর্জিত বিষয় শিক্ষা শুরুর মনস্থ হন। বাল্যকালে এক রাত্রে তিনি স্বপ্ন দেখেন, নূর  নবী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  তাকে এই শিক্ষা ত্যাগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এরপর তিনি এই শিক্ষা বাদ দিয়ে ফুরফুরার নিকটবর্তী প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (১৭৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত) সিতাপুর মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে হুগলি সদর শহরের মুহসিনিয়া মাদ্রাসা থেকে তৎকালীন সর্বোচ্চ জামাতে উলা ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর কলকাতা শহরে গিয়ে তৎকালীন সিন্দুরিয়া পট্টি মসজিদের (বর্তমানে অধুনা কলুটলা, কলকাতা) জামালুদ্দিন শিক্ষা কেন্দ্রে ভর্তি হোন। সেখানে হাফেজ জামালুদ্দিন মুঙ্গেরীর নিকট হাদিস, তাফসির ও ফিকাহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। হাফেজ জামাল উদ্দিন ছিলেন সৈয়দ আহমদ বেরলভীর রহ. এর খলিফা। এরপর তিনি ফিরিঙ্গি মহলের নজর শাহ বেলায়েতীর নিকট হিকমাহ শাস্ত্র, বালাগাত-মানতিক, দর্শন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। বেলায়েতীর নিকট অধ্যয়নকালে তিনি কলকাতার নাখোদা মসজিদে অবস্থান করতেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে দীর্ঘ ১৮ বছর ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেন। এসময় তিনি নিজস্ব একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে বহু দুষ্প্রাপ্য বই ছিলো। গ্রন্থাগারটি বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত ফুরফুরা টাইটেল মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।  ১৮৯২ সালে তিনি মক্কা ও মদিনা শহরে গমন করেন। মদিনায় অবস্থানকালে তিনি মদিনার বিখ্যাত মুহাদ্দিস সৈয়দ মোহাম্মদ আমিন ইবনে আহমাদের নিকট ৪০টি হাদিস গ্রন্থের সনদ লাভ করেন।

ফুরফুরা দরবার শরীফ সূচনালগ্ন থেকেই পরিপূর্ণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী। মাযহাবে হানাফীর ধারক বাহক। তরিকায়ে কাদেরীয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, মোজাদ্দেদীয়া, মুহাম্মদীয়ার প্রচার প্রসার, তালিম তাওয়াজ্জুহ, সবকাদি মশক করিয়ে থাকেন। 

মক্কা, মদিনা থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, আসামসহ বহু স্থানে তার খেলাফত ও প্রতিনিধি রয়েছে। তার সর্বমোট খলিফা বা প্রতিনিধি ছিল হাজারের অধিক।আল্লামা রুহুল আমিন বশিরহাটী র. তাঁর লিখিত ‘হযরত পীর সাহেব কিবলার জীবনী তে ৫৫২ জন খলীফার নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজনের নাম:মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দীকি র., মাওলানা আবূ জাফর সিদ্দীকি র.,মাওলানা শাহ সূফী নেছার উদ্দিন র. ছারছীনার পীর সাহেব), মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বশিরহাটী র.. মাওলানা শাহ সূফী হাজী আব্দুল হামীদ র. (মাগুরার পীর সাহেব), সূফী হযরত ছদরুদ্দিন র. (গঙ্গারামপুর), প্রফেসর আব্দুল খালেক র. (ছতুরা), মৌলভী ময়েজ উদ্দিন হামিদী র., হাফেজ আব্দুর রহমান হানাফী (সোনাকান্দা), আজিমুদ্দিন (ধামতী), ড. মুহাম্মাদ শহিদুল্লাহ র., মাওলানা মুআজ্জেম হোসেন মক্কী (হদুয়ার পীর) রহ. সহ আরো অনেকে।

মোজাদ্দিদে জামান আবু বকর সিদ্দিকী আল কোরাইশী রহ মুসলমানদের সমাজ সংস্কারে বহুমাত্রিক অবদান রেখেছেন। এ জন্য তিনি  তিনটি পন্থা অবলম্বন করেন। যেমন-

০১.ওয়াজ নসীহত। 

০২. সাহিত্য। 

০৩.সংবাদপত্র।

সংবাদপত্রে ফুরফুরা সিলসিলার অসামান্য অবদান

তিনি বেশ কিছু পত্র-পত্রিকায় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। আর্থিক সংকটে পতিত হয়েছে, এমন অনেক পত্রিকাকে তিনি নিজ তহবিল হতে অথবা চাঁদা সংগ্রহ করে সাহায্য করেছেন (হাকীকতে ইনসানিয়াত, ২৯)। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় যে সকল পত্র-পত্রিকা পকাশিত হয়েছিল উহার কয়েকটির নাম উল্লেখ কর হলঃ (১) মিহির ও সুধাকর (সাপ্তাহিক), সম্পাদক, শেখ আবদুর রহিম, ১ম প্রকাশ, ১৮৯৫; (২) নবনূর (মাসিক), সম্পাদক, সৈয়দ এমদাদ আলী, ১ম প্রকাশ, ১৯০৩, (৩) মোহাম্মদী (সাপ্তাহিক), সম্পাদক মোহাম্মদ আকরাম খাঁ, ১ম প্রকাশ ১৯০৮, (৪) সুলতান (সাপ্তাহিক), পরবর্তীকালে দৈনিক, সম্পাদক, প্রথমে রেয়াজুদ্দিন আহমদ ও পরে মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ১ম প্রকাশ, ১৯০২; (৫) মুসলিম হিতৈষী (সাপ্তাহিক), সম্পাদক শেখ আবদুর রহিম, ১ম প্রকাশ ১৯১১; (৬) ইসলাম দর্শন (মাসিক), আঞ্জুমানে ওয়ায়েজীনের মুখপত্র, সম্পাদক, মোঃ আবদুল হাকিম ও নূর আহম্মদ, ১ম প্রকাশ, ১৯২০, (৭) হানাফী (সাপ্তাহিক), সম্পাদক, মোহাম্মদ রুহুল আমীন, ১ম প্রকাশ, ১৯২৬; (৮) শরিয়তে এসলাম (মাসিক), সম্পাদক, আহমদ আলী এনায়েতপুরী, ১ম প্রকাশ, ১৯২৬। (৯) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত; (১০) রওশনে হিদায়েত।

বঙ্গ ও আসামের হাজার হাজার আলেম উলামাদের নিয়ে তিনি সামাজিক দ্বন্দ্ব কলহ মীমাংসা, ফান্ড স্থাপন, যুব সমিতি গঠন, মতভেদী মাসয়ালা মীমাংসা ও জনহিতকর কার্যে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। যেমন- ০১. আঞ্জুমানে ওয়ায়েজীন(১৯১১), ০২. জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ(১৯১৯), ০৩. আজাদী আন্দোলন। 

০১. ওহাবী লামাজহাবী ফিতনা রদ, ০২. ওহাবীদের বাতিল বলে ফতওয়া প্রদান, স্বহস্তে বিদআত উচ্ছেদ, ০৩. কাদিয়ানী, শিয়া, রাফেজী, আজানগাছী, সুরেশ্বরী, মাইজভান্ডারিদের বিরুদ্ধে লিখনী ও বাহাসের মাধ্যমে প্রতিবাদ। ০৪. আজমীর শরীফে অজ্ঞ লোকের মাজারে ফুল শিরনী, সিজদা,চুম্বন, গান বাদ্য, কাওয়ালী, করতালি ইত্যাদি নানা প্রকার শিরক বিদআত উচ্ছেদ।

শিক্ষা ক্ষেত্রে মুসলমানদের শোচনীয় অধঃপনের যুগে ফুরফুরা শরীফের পীর মোজাদ্দিদে জামান আবূ বকর সিদ্দীকি র. এর নির্দেশে ও পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় ৮০০ শত মাদরাসা ১১০০ শত মসজিদ স্থাপিত হয়েছে। তন্মধ্যে বিখ্যাত কয়েকটি মাদরাসার নাম উল্লেখ করা হল- ১. ফুরফুরার শরীফের (টাইটেল) মাদরাসা ২.দক মাদরাসা ৩. সীতাপুর মাদরাসা ৪. মোল্লা শিমলা মাদরাসা ৫. ছারছিনা দারুস্সুন্নাত কামিল মাদরাসা (পিরোজপুর) ৬. ছায়ানী মাদরাসা ৭. নোয়াখালী ইসলামিয়া মাদরাসা ৮.চৌধুরানী ফাহীয়া মাদরাসা ৯.জোড়া মাদরাসা (বগুড়া) ১০. মুরইল মাদরাসা (বগুড়া) ১১.বগুড়া সরকারী মুস্তফাবিয়া কামিল মাদরাসা ১২. করিয় মুজা মাদরাসা ১৩ হানাইল মাদরাসা ১৪ কুড়ুই মাদরাসা ১৫.হাদল মাদরাসা ১৬.শিপনুর মাদরাসা ১৭. পূর্বা পাড়া মাদরাসা ১৮.শরৎ নগর মাদরাসা ১৯.পুটুলা পাড়া মাদরাসা ২০. ধলেশ্চর মাদরাসা ২১.ধলাউড়ী মাদরাসা ২২. তারাবেড়ীয়া মাদরাসা (পাবনা) ২৩.গোনাতুনীয়া মাদরাসা ২৪. গোবিন্দপুর মাদরাসা ২৫.গোপগ্রাম মাদরাসা ২৬. লাউড়ীয়া কামিল মাদরাসা ২৭. বাকুল মাদরাসা ২৮. মাগুরা সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদরাসা ২৯.ডেকুয়া মাদরাসা ৩০. কাহালু মাদরাসা ৩১. পদ্মবিলা মাদরাসা ৩২. ইসলামাবাদ মাদরাসা ৩৩.মহিরাণ পীর সাহেবের মাদরাসা (যশোর) ৩৪. ছনছরপুর আছার নয়ন মাদরাসা ৩৫. দোগাছিয়া মাদরাসা। এরূপ বহু মাদরাসা আজও সগৌরবে দাড়ে থেকে তাঁর কর্ম কুশলতার সাক্ষ্য দিতেছে। ২৩৬. সৈয়দপুর দারুল উলূম মাদরাসা ৩৭. চট্টগ্রাম দারুল উলূম মাদরাসা ৩৮. বরিশাল সৈয়দপুর সিনিয়র মাদরাসা ৩৯. চরপদ্দার মাদরাসা ৪০. মির্জাকালুর মাদরাসা ৪০. তেলিখালির মাদরাসা (পটুয়াখালী) ৪১. চরকাউয়ার মাদরাসা ৪২.মেহেরগঞ্জর সিনিয়র মাদরাসা ৪৩.বগুড়ার বড় মেহার মাদরাসা ৪৪. বাজার মাদরাসা (বগুড়া) ৪৫. দিনাজপুর চন্দন বাড়ি মাদরাসা ৪৬,দিনাজপুর বড়গাও মাদরাসা ৪৭. রংপুর মাঠের বাজার মাদরাসা (রংপুর) ৪৮. তবকপুর মাদরাসা (রংপুর) ৪৯.কান্দির হাট মাদরাসা (রংপুর) ৫০. (নোয়াখালী) মির আহমদপুরের মাদরাসা (নোয়াখালী) ৫১.পাচবেড়িয়া এতিম খানা মাদরাসা (নোয়াখালী) ৫২.ফেনী সিনিয়র মাদরাসা ৫৩. মুরইল মাদরাসা (বগুড়া) ৫৪.জোড়া মাদরাসা (বগুড়া) ৫৫.দামগড়া মাদরাসা (বগুড়া) ৫৬.তারাবেড়িয়া মাদরাসা (পাবনা) ৫৭.উলট মাদরাসা (পাবনা) ৫৮,হাদোল শিববর মাদরাসা (পাবনা) ৫৯.পুষ্পপাড়া মাদরাসা (পাবনা) ৬০. ধূলাউড়ি মাদরাসা (পাবনা) ৬১.আমবেড়িয়ার মাদরাসা (কুষ্টিয়া) ৬২. ষাটগুম্বজ মাদরাসা (বাগেরহাট) ৬৩.হুগলী পাঁচলার সিনিয়র মাদরাসা ইত্যাদি শত শত ওল্ডস্কীম জুনিয়র ও সিনিয়র মাদরাসা তাঁর দ্বারা বা তাঁর খলিফাগণ কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। ৩ ৬৪. পাকশী মাদরাসা (পাবনা) ৬৫. ঝিনাইদহ সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদরাসা ৬৬. পাতাখালী ফাজিল মাদরাসা ৬৭. সাতক্ষীরা কামিল মাদরাসা ৬৮. যশোর আমিনিয়া কামিল মাদরাসা ৬৯. হামিদপুর মাদরাসা (সাতক্ষীরা) ৭০.সোনাকান্দা দারূল হুদা মাদরাসা (কুমিল্লা) ৭১. আনওয়ারুল উলূম সিদ্দীকিয়া হামীদিয়া মাদরাসা (মাগুরা) ৭২.বগুড়া মাঝাইল দাখিল মাদরাসা (মাগুরা) ৭৩. আলুকদিয়া মাদরাসা (মাগুরা) ৭৪. দারিয়াপুর মাদরাসা (মাগুরা) ৭৫. শ্রীপুর মাদরাসা (মাগুরা)।

এছাড়াও তাঁর মাধ্যমে ভারতবর্ষে হাজার হাজার মসজিদ, মকতব, খানকাহ, হেফজখানা, এতিমখানা, ফাজিল, কামিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ ১৭ মার্চ বাংলা ১৩৪৫ সনের ৩ চৈত্র, ২৫ মুহাররাম ১৩৫৮ হিজরি সালে শুক্রবার ছোবহে সাদিকে ৫.৪৫ মিনিটে তিনি রফিকে আলার ডাকে সাড়া দেন। ফুরফুরার মিয়াপাড়া মহল্লায় তাঁকে দাফন করা হয়। তার মাজার ফুরফুরা শরীফ।  তাঁর এন্তেকালের পরও তাঁর আরদ্ধ কাজে ছেদ পড়েনি। তাঁর পাঁচ পুত্র। প্রথম পুত্র শাহ সুফী আবু নসর মুহাম্মদ আবদুল হাই রহ. তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। পুত্ররা সকলেই ইলম-ই-শরিয়াতে জ্ঞান সম্পন্ন এবং তাঁর খলিফা ছিলেন।

গ্যালারি

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

Scroll to Top